লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার নাবাতিয়েহ ও টায়ার জেলার বিভিন্ন স্থানে এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় একটি আবাসিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের ব্যাপক বোমা বর্ষণে পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং অনেক ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের দিন কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই একই এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল। নাবাতিয়েহ ছাড়াও টায়ার সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বোমা হামলায় আরও অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি এই হামলায় শুধু বসতবাড়িই নয়, একটি কনভেন্ট ও একটি স্কুলও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে সহিংসতার কোনো অবসান ঘটেনি। ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের এই অভিযান মূলত হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, তবে বাস্তবে নিহতদের বড় অংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১৮ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৪ জন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল ও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও আবাসিক এলাকাগুলোতে নির্বিচার হামলা ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি থামছে না, যা লেবাননের মানবিক পরিস্থিতিকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

