ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় জাহেনা আক্তার (৩২) ও তার তিন বছরের শিশু কন্যা সামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা সংলগ্ন একটি মাঠের পুকুরপাড়ে মাটি খুঁড়ছিল একদল কুকুর। এসময় মাঠের কাজে যাওয়া এক নারী দূর থেকে কুকুরগুলোকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেন। কৌতূহলবশত তিনি কাছে গিয়ে মাটি থেকে মানুষের পা বেরিয়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।
নিহত জাহেনা আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পরেশ উল্লাহ মাতবরের পাড়ার আমজাদ হোসেনের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে থেকে শিশু কন্যাসহ জাহেনা নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক গঠন দেখে মা-মেয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তুহিনুর রহমান মন্ডল জানান, ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে জনসমাগম কম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কিছুটা শিথিল থাকে। এই সুযোগেই অপরাধীরা এমন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ওই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানান।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুঁড়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। তিনি বলেন, “মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

