তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলে একের পর এক বিদ্রোহের মুখে অবশেষে যুক্তরাজ্যের লেবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। দলের ভেতরে ক্রমাগত চাপ এবং উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ মহল ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে ক্ষমতা ছাড়ার এই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন এবং এটিও মেনে নিয়েছেন যে এই চরম বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তবে তিনি ‘নিজের শর্তে’ এবং মর্যাদার সঙ্গে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়তে চান। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে তিনি খুব শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক সময়সূচি (টাইমটেবিল) ঘোষণা করতে পারেন।
গত ৭ মে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয় ও ভরাডুবির পর থেকেই কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলে তীব্র সংকট শুরু হয়। নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ বড় জয় পায় এবং লেবার পার্টি তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রায় ১,২০০টি আসন হারায়। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া কেলেঙ্কারি স্টারমার সরকারকে চরম ইমেজ সংকটে ফেলে দেয়। ইতোমধ্যে ৮০ জনেরও বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
স্টারমার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও হেভিওয়েট সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা এনে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর শনিবার এক ভাষণে স্ট্রিটিং সরাসরি ঘোষণা দেন যে, আগামীতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নিজের প্রার্থিতা পেশ করবেন। একই সাথে তিনি স্টারমারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক এই দেউলিয়াত্বের পাশাপাশি সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের কাছেও কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘ইউগোভ’ (YouGov)-এর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যকলাপে চরম অসন্তুষ্ট। ইউগোভ আরও জানিয়েছে, স্টারমার বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

