ডন নিউজ এজেন্সির দেয়া আপডেট তথ্যমতে, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার পাকিস্তান তার নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি ফাতেহ-২ (Fatah-II) গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেমের (GMLRS) সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এটি বর্তমানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনে যুক্ত হওয়া একটি কৌশলগত প্রচলিত অস্ত্র।
নতুন এই প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় ফাতেহ-২ গাইডেড আর্টিলারি রকেট বা মিসাইল সিস্টেম অত্যন্ত নির্ভূলভাবে তার দূরপাল্লার টার্গেটে স্ট্রাইক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এটি ডিজাইন ও তৈরি করে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ ও ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্টিফিক কমিশন (নেসকম)। এই মিসাইলের সর্বোচ্চ পাল্লা হতে পারে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
আসলে, ৭.৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই আর্টিলারি রকেট বা মিসাইলের ব্যাস হচ্ছে ৬০০ মিলিমিটার। এটিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সীমান্তের গভীরে অবস্থিত শত্রুর সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্রিজ, গোলাবারুদ ডিপো এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করার উপযোগী করে ডিজাইন করা হয়েছে।
এই রকেট (GMLRS) সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত দিক হলো এর অনন্য উড্ডয়ন পথ। ফাতেহ-২ সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো উপরে উঠে নিচে নামার পরিবর্তে ভূপৃষ্ঠের অনেকটাই কাছাকাছি এবং অনিয়মিত পথে উড্ডয়ন করতে সক্ষম, যার ফলে শত্রুর রাডার সিস্টেমের পক্ষে এটিকে সনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
গাইডেন্স সিস্টেম হিসেবে এটিতে উন্নত ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (আইএনএস) ও গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সার্ভিস (জিএনএসএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে, কোনো কারণে স্যাটেলাইট সংকেত বিঘ্নিত হলেও (আইএনএস) গাইডেন্স সিস্টেম মিসাইল/রকেটটিকে সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ফাতেহ-২ মিসাইল ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিবেশেও লক্ষ্যভেদের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা বজায় রাখতে সক্ষম এবং এর হিটিং একিউরিসি (CEP) প্রায় ৫০ মিটার বা এর কমও হতে পারে। এই মিসাইলের ম্যাক্সিমাম পেলোড ক্যাপাসিটি বা ওয়ারহেডের ধারণক্ষমতা হতে পারে প্রায় ৩৬৫ কেজি।
এই রকেট সিস্টেমটিকে খুব সম্ভবত চীনের তৈরি (তাইআন) টিএএস৫৪৫০ চেসিসের একটি আট চাকার ট্রাকে স্থাপন করা হয় মাউন্ট করা হয়, যা যুদ্ধক্ষেত্রে এই মিসাইল সিস্টেমটিকে স্থানান্তর, দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে মিসাইল ফায়ার করার উপযোগী করে তুলেছে।
ফাতেহ-২ মিসাইল/ আর্টিলারি রকেট সিস্টেম খুব বড় বা বেশি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে না, তবে এর নির্ভুলতা এবং একসাথে ব্যারেজ ফায়ারের সক্ষমতা এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে বড়ো রকমের কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে। এর উতপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও সময় যথেষ্ট কম হওয়ায় বড় আকারের মজুত গড়ে তুলতে চায় দেশটি।
সর্বশেষ আপডেট তথ্যমতে, ফাতেহ-২ আর্টিলারি রকেট/ মিসাইল সিস্টেম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনে ইতোমধ্যে যুক্ত করা হয়েছে। এই ডিফেন্স সিস্টেমটি পাকিস্তান তার নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি বলে দাবি করা হলেও এক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।

