পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া, এবার চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা ‘আয়ুষ্মান ভারত’

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যটিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবার পশ্চিমবঙ্গেও পুরোদমে চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর ফলে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসার আকাশছোঁয়া ব্যয়ের বোঝা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে দেওয়া বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই যুগান্তকারী ঘোষণা দেন, যা তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর প্রথম বড় কোনো সরকারি পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

‘আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’(এবি-পিএমজেএওয়াই)-এর আওতায় প্রতিটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত ক্যাশলেস বা নগদহীন চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করতে পারবে। বিশেষত, ৭০ বছরের বেশি বয়সী সব প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের অধীনে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলার উন্নয়ন, নারীদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিজেপি দিনরাত কাজ করে যাবে।

উল্লেখ্য, ভারতের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রকল্প আগে থেকেই চালু থাকলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে এটি এতদিন বাস্তবায়িত হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার রাজ্যের নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় এই বিমা গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন চলেছে। কেন্দ্রের দাবি ছিল, রাজনৈতিক কারণে বাংলার সাধারণ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সেই বাধা দূর হলো।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে যে বড় ধাক্কা লাগে, আয়ুষ্মান ভারত তা রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকর। গত বছর ওড়িশা ও দিল্লিতেও এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কেবল স্বাস্থ্য খাতেই নয়, বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এই ঘোষণা বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *