চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনপদপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে সব ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন করতে অন্তত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি আভাস দেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও তফসিল নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, উপজেলা পরিষদকে খাটো বা অক্ষম করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত, কেন্দ্র সংস্কার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মতো প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ন্যূনতম ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবারের স্থানীয় বা জাতীয় কোনো পর্যায়ের নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না।
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যুৎচালিত বা ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার এককালীন ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। আবহাওয়া, পাবলিক পরীক্ষা এবং ধর্মীয় উৎসবের বিষয়গুলো মাথায় রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে। মাঠ প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

