মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) দপ্তরে যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরকরণের অভিযোগকে ঘিরে চলমান আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মুখ খুলেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই মামলার অভিযুক্ত নিদা খানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে এবং শিক্ষিত মুসলিমদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চক্রান্ত চলছে।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তল্লাশির সময় বোরকা, হিজাব বা ধর্মীয় গ্রন্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে অপরাধের আলামত হিসেবে প্রচার করার, নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “বোরকা বা কুরআন প্রতিটি মুসলিম পরিবারেই থাকে; এগুলো কবে থেকে অবৈধ হয়ে গেল?” তিনি আরও যোগ করেন, টেলিভিশন বিতর্ক বা জনসমক্ষে বয়ান তৈরি না করে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই মীমাংসা হওয়া উচিত। ওয়াইসির মতে, অতীতে মালেগাঁও বা মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণের মতো অনেক মামলাতেই অভিযুক্তরা পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন, কিন্তু মাঝপথে মিডিয়া ট্রায়ালে তাঁদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওয়াইসি উল্লেখ করেন যে, মামলার মূল অভিযুক্ত নিদা খান এইচআর বিভাগের অংশ ছিলেন না এবং অভিযোগ দায়েরের আগেই তাঁকে বদলি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী ব্যক্তি শাসক দলের ঘনিষ্ঠ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই এই মামলা সাজানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাত পাল্টা অভিযোগে জানিয়েছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে ‘লাভ জিহাদ’-এর চক্রান্ত থাকতে পারে। তিনি এআইএমআইএম নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এআইএমআইএম কর্পোরেটর মতিন প্যাটেলের বিরুদ্ধে মামলা এবং নিদা খানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ওয়াইসি বলেন, “আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হলেও আমরা বিচলিত নই। বিচার বিভাগের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে এবং আমরা আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করব।”
নাসিক পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্ত করছে। এই মামলাটি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে কেবল আইনগত ইস্যু হিসেবে নয়, বরং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

