নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ত্যাগ করার পর তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে শিশুটি দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখে এবং গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগরকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে পুলিশি তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

