ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্ত আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের মিত্রদের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারল্যান জানিয়েছেন, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপ মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছে। জার্মানির পাশাপাশি ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে না, সেখানে সেনা মোতায়েন রাখার কোনো যুক্তি নেই।
এই সেনা প্রত্যাহারের পেছনে বাণিজ্যিক বিরোধের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইউরোপ বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডিফুল যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তারা ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সেনা হ্রাসের বিষয়ে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রেমস্টেইন বিমানঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর সীমিত ভূমিকা ওয়াশিংটনকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

