টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও পাঁচলাইশসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এখন কেবল মৌসুমি দুর্ভোগে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গিয়ে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, দোকানপাট ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পানিতে প্লাবিত হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে ফিরে যান।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ফলে সেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে আশপাশের ফার্মেসি ও সার্জিক্যাল দোকানগুলোতেও লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তাদের অবস্থাই সবচেয়ে সংকটাপন্ন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত একাধিক চেম্বার ও দোকান পানির কারণে অচল হয়ে পড়েছে, ফলে অনেকেই নতুন করে শুরু করার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। একই সঙ্গে রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান ড্রেনেজ ও খাল সংস্কার প্রকল্পের ধীরগতি এবং অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নালা দখল এবং নদীর জোয়ারের প্রভাব যুক্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্রতর হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চলমান উন্নয়ন কাজ সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বাস্তবতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ এখনই লাঘবের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

