চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় ২ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ও সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের আগেই বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা-নিন্দপুর রঙের বাজার সংযোগ সড়কের হরিপুর গ্রামে নির্মাণাধীন সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গার্ডওয়ালে ধস দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন এই আরসিসি গার্ডার সেতুর দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো কাঠামোটি এখন ধসে পড়ার আতঙ্কে রয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের এমন নাজুক অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড সন্স। ১২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় ফাটল ও গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পটির স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি রাস্তা ও সেতুতে এমন ধস নামে, তবে আসন্ন বর্ষাকালে এটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সরকারি অর্থের এমন অপচয় এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদ দাবি করেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে তিনি আবারও মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেন।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃষ্টির কারণে সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়নি। কাজের মান যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার পর এবং ত্রুটি সংশোধন সাপেক্ষে চূড়ান্ত পেমেন্ট দেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও জনমনে আতঙ্ক কাটছে না।

