বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও আমেরিকার অবরোধের কারণে বৈশ্বিক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তবে চলমান এই বিশৃঙ্খলা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের জাতীয় অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে বড়ো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে, নন-ওয়েল রেভিনিউ এবং শক্তিশালী ফরেক্স রিজার্ভ অর্জনে মাইলফলক সাফল্য দেখিয়েছে সৌদি আরব।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ সংকটের কারণে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নির্ভর আয়ে সামান্য পতন ঘটেছে। আগের বছরের তুলনায় একই সময়ে প্রায় ৩% হ্রাস পেয়ে তেল আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৫ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল (৩৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তবে দেশটির মোট রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৬১ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে।
তবে, জ্বালানি তেল রপ্তানি আয়ে সামান্য পতন হলেও, সৌদি আরবের তেল ছাড়া রাজস্ব আয় (non-oil revenue) ২% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ বিলিয়ন রিয়াল (৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। আর দেশটির এই বৃদ্ধি দেশটির বহুমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
বিগত পাঁচ দশকে, সৌদি আরবের জাতীয় অর্থনীতি, গ্যাস ও জ্বালানি তেল রপ্তানি নির্ভর শিল্পের উপর ভিত্তি করে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। আইএমএফ এর দেওয়া আপডেট তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালে সৌদি আরবের নমিনাল জিডিপির আকার ১.৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার এবং মাথাপিছু আয় ৩৭,৮১০ ডলার দেখানো হয়েছে।
এছাড়া, মাত্র ৩৬.৭৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ সৌদি আরবের অর্থনীতি ঠিক কতটা শক্তিশালী, তা জানতে হলে তাদের হাতে মজুত থাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার রিজার্ভ এবং তার পাশাপাশি দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হবে।
CEIC Deta অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে সৌদি আরবের কাছে ৪৭১.৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা এবং একই সময়ে প্রায় ৩২৩.০৭ টন সোনার রিজার্ভ ছিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এছাড়া, মার্কিন আপত্তি উপেক্ষা করে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা ইউয়ান রিজার্ভ করা শুরু করে এক নতুন চমক সৃষ্টি করেছে।
সৌদি আরবভিত্তিক maaal.com ওয়েবসাইটের দেওয়া আপডেট তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বাজেট বিবৃতি অনুযায়ী, দেশটির প্রথম ঋণ প্রান্তিক শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০৪২.৭৭৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল, যা আগের তুলনায় ৯৯.৪২২ বিলিয়ন রিয়াল বেশি।
একই সময়ে, দেশটির বৈদেশিক ঋণ (external debt) বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬২৪.৪০৩ বিলিয়ন রিয়াল বা ১৬৫.১৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৮.৭৫০ বিলিয়ন রিয়াল বেশি। তবে, বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে সৌদি আরবের ফরেক্স রিজার্ভ এবং জাতীয় রপ্তানি আয় এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, চলমান বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও সৌদি আরবের অর্থনীতি দেশটির শক্তিশালী রিজার্ভ, বহুমুখী রাজস্ব আয় এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে। এ সাফল্য দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে আরও সুদৃঢ় ও ইতিবাচক করে গড়ে তুলবে।

