গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে খালাবাড়িতে বেড়াতে এসে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০ বছরের এক শিশু। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নিজামকান্দি পূর্বপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মুরসালিন শেখ, যে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি গত রবিবার সদর উপজেলার বনগ্রামের নানাবাড়ি থেকে কাশিয়ানীতে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ধান কাটার মৌসুম চলায় পরিবারের সদস্যরা মাঠে ব্যস্ত থাকার সুযোগে প্রতিবেশী মুরসালিন শেখ শিশুটিকে গোসল করানোর কথা বলে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি খুলে বললে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নত ফরেনসিক বা ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
ঘটনার পর দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ভুক্তভোগীর খালু জানান, পরিবারের সবাই কৃষি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে তাঁরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আসামিকে গ্রেপ্তারে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাশিয়ানীর এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকর্মীরা দ্রুত আইনি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

