প্রধান খবর

কুরবানির পশু পর্যাপ্ত আছে, ভারত থেকে গরু আসতে দেওয়া হবে না

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কুরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, কুরবানির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে কোনো গরু আনার প্রয়োজন নেই। দেশের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাইরে থেকে যেন কোনো পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সর্বোচ্চ সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে বগুড়া শহরের মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “বাংলাদেশ এখন কুরবানির পশু উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের দেশীয় খামারিরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশের চাহিদা পূরণ করছেন। ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ গবাদিপশু রপ্তানির দিকেও এগিয়ে যাবে।”

কুরবানির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ পশুর চামড়ার দাম কমে যাওয়া প্রসঙ্গে খামারি ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ ও প্রান্তিক খামারিরা যাতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক খামারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সেমিনার শেষে সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রী বগুড়া শহরতলীর জয়পুরপাড়ায় নবনির্মিত একটি আধুনিক জেলা কসাইখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ ডেসিমেল জমির ওপর এই কসাইখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক এই কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু এবং ৩০টি ছাগল বা ভেড়া সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জবাই ও মাংস প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *