টানা মূল্যপতনের ধাক্কা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সীমিত পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকার পর মঙ্গলবার সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই বৃদ্ধি এখনো দৃঢ় নয়; জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৪১.৩৯ ডলারে পৌঁছায়। আগের সেশনে উল্লেখযোগ্য পতনের পর এটি সামান্য ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪,৫৫০.৭০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের বাজার স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে, যার ফলে বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, বিশেষত হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ক্রয় ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, যা চাহিদা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে একই সঙ্গে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে আকৃষ্ট করে, যা স্বর্ণের চাহিদাকে সীমিত করতে পারে। ফলে স্বর্ণবাজার বর্তমানে দ্বিমুখী চাপে রয়েছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির দিকে। সুদের হার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ও আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্য যেমন কর্মসংস্থান ও পে-রোল প্রতিবেদন স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। স্পট সিলভার, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ধাতব বাজারে মিশ্র আশাবাদ ও সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

