চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন ধরনের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল নিয়ে সামনে এসেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া চাকরির অফার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের টার্গেট করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কস-এর গবেষণা ইউনিট ৪২-এর তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানি হ্যাকাররা রিক্রুটার সেজে বিশেষ করে এভিয়েশন খাতের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের ফাঁদে ফেলছে। পাশাপাশি মার্কিন তেল-গ্যাস কোম্পানি এবং ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংস্থাও তাদের টার্গেটে রয়েছে।
গবেষকদের মতে, হ্যাকাররা এআই ব্যবহার করে বাস্তব কোম্পানির মতো দেখতে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞপ্তি তৈরি করছে। প্রার্থীরা আগ্রহ দেখালে তাদের একটি নির্দিষ্ট ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করতে বলা হয়। ওই অ্যাপের মধ্যেই আগে থেকে ম্যালওয়্যার সংযুক্ত থাকে, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সাইবার অভিযানের মাধ্যমে বিমান চলাচল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-যেমন ফ্লাইট তালিকা ও যাত্রীদের তথ্য পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে ইরান। একই সঙ্গে তেল–গ্যাস কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম নজরদারি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার সম্পর্কে আগাম ধারণা নেওয়াও তাদের লক্ষ্য হতে পারে।
ইউনিট ৪২–এর গবেষকেরা বলছেন, এই কৌশল অনেকটা উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ব্যবহৃত পদ্ধতির মতো, যেখানে ভুয়া আইটি কর্মী বা রিক্রুটার সেজে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এভিয়েশন ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টার-এর সভাপতি জেফ্রি ট্রয় সতর্ক করে বলেছেন, ভুয়া পরিচয়ে ক্রেডেনশিয়াল সংগ্রহ এবং হেল্পডেস্ক ব্যবস্থার অপব্যবহার এখন বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জ্বালানি অবকাঠামোতেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ইরানকে সন্দেহ করা হয়। চলমান সংঘাতের মধ্যেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন হামলার আশঙ্কা আগেই জানিয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো এভিয়েশন বা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি, তবে ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান এই সাইবার অভিযানের শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

