ইউক্রেনের আকাশসীমায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন এক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত চলা এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর সূত্রমতে, রুশ বাহিনী এই অভিযানে ৬১৯টি ড্রোন এবং ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৫৮০টি ড্রোন এবং ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়, তবে নিপ্রো শহরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানজা জানিয়েছেন, নিপ্রোতে ঢেউয়ের মতো চালানো আক্রমণে একটি বহুতল আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে। উদ্ধার অভিযান চলাকালে রুশ বাহিনী দ্বিতীয়বার ‘ডাবল ট্যাপ’ হামলা চালালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ায়।
রাশিয়ার এই হামলার প্রভাব সরাসরি প্রতিবেশী ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়াতেও অনুভূত হয়েছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ ড্রোনগুলো তাদের সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসায় ফেটেস্টি বিমানঘাঁটি থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর দুটি ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ যুদ্ধবিমান জরুরি ভিত্তিতে উড্ডয়ন করে। পাইলটদের ড্রোন ধ্বংস করার চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বিদ্যুৎ খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাষ্ট্রীয় সফরে আজারবাইজানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে এক কড়া বার্তায় তিনি বলেন, “এই ভয়াবহ হামলা আবারও প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) দ্রুত শক্তিশালী করা কতটা জরুরি।” তিনি বর্তমানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সামরিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালাচ্ছেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর অবকাঠামো ও মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই রাশিয়া এই বিশাল পরিসরের হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটোর আকাশসীমার এত কাছে হামলা চালানোর ঘটনাটি পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

