পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কলকাতায় এক নির্বাচনি জনসভা থেকে তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে জয়ের পর তার পরবর্তী লক্ষ্য হবে দিল্লি দখল। তবে মমতার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কলকাতার চৌরঙ্গি এলাকায় আয়োজিত জনসভায় টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেবল পশ্চিমবঙ্গ রক্ষা করাই তার উদ্দেশ্য নয়, বরং কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হটাতে তিনি বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করবেন।
মমতা বলেন, “মনে রাখবেন, আমাদের হারানো সম্ভব নয়। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করি। আমি বাংলাতেই জন্মেছি এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করব। তবে বাংলায় জয় নিশ্চিত করার পর আমি দিল্লি দখল করব।” ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন , “আমি গদি চাই না; আমি দিল্লিতে বিজেপির সম্পূর্ণ পতন চাই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘দিল্লি চলো’ হুঙ্কারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতায় নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেসেই উড়িয়ে দেন মমতার দাবি। তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “এখানে (বাংলায়) তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি দিল্লি যাবেন কীভাবে? আমার আর কী-ই বা বলার আছে?” গেরুয়া শিবিরের দাবি, এবার বাংলাতেই তৃণমূলের পতন ঘটবে, তাই দিল্লি জয়ের স্বপ্ন দেখা বৃথা।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দফায় ৯২.৮ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনি ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ ‘ভুয়া’ নাম বাদ দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি সব রাজনৈতিক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ হার পরিবর্তনের ইঙ্গিত নাকি বর্তমান সরকারের ওপর আস্থার প্রতিফলন—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তৃণমূল ও বিজেপির এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষ পর্যন্ত মহাকরণ থেকে সংসদ—কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

